বৌদ্ধ দর্শন (Buddhist Philosophy) | বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি | আর্যসত্য | অষ্টাঙ্গিক মার্গ

বৌদ্ধ দর্শন (Buddhist Philosophy in Bengali) | বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি | আর্যসত্য | অষ্টাঙ্গিক মার্গ
বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি কোনটি ?
আর্যসত্য কি ? অথবা, আর্যসত্য বলতে কি বোঝায় ? অথবা, বৌদ্ধধর্মে আর্যসত্য কী ? অথবা, চারটি আর্যসত্য কী কী ?
অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলতে কী বোঝায়? অথবা, অষ্টাঙ্গিক মার্গ কী কী ? অথবা, অষ্টাঙ্গিক মার্গ ব্যাখ্যা করো ।

উত্তর:

বৌদ্ধ দর্শন

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে যখন উপনিষদীয় চিন্তাধারা কর্মমীমাংসা ও ব্রহ্মমীমাংসার বিরােধে ধর্মসংকটের ন্যায়

বৌদ্ধ দর্শন

তত্বসংকটের সম্মুখীন হয় | দুটি বিরােধী ভাবনার দ্বন্দ্বের ফলে ভারতবর্ষের সমাজজীবনে প্রবল আধ্যাত্বিক অস্থিরতা আসে। একদিকে বেদবাদি মতবাদ অন্যদিকে বেদবিরােধী নাস্তিক মত। তখন গৌতম বুদ্ধের কঠোর তপস্যালব্ধ সত্যের অনুসারী এক বেদবিরােধী সম্পদায দর্শনের আঙিনায় আবির্ভূত হন। এই সম্প্রদায়ই ‘বৌদ্ধ সম্প্রদায়’ নামে পরিচিত। বুদ্ধদেব উপনিষদীয় কর্মকাণ্ড ও ব্রহ্মান্ডের চুলচেরা যুক্তিতর্কের বেড়াজালে আবদ্ধ না থেকে এবং জড়বাদ ও নাস্তিকতার দার্শনিক সমস্যায় মগ্ন না থেকে, সাধারণ মানুষের বােধগম্য এক আধ্যাত্মিক চিন্তাধারার প্রবর্তন করেন। এই আধ্যাত্মিক চিন্তাধারা বেদ ভিত্তিক না হয়েও সাধারণ মানুষের আধ্যাত্মিক জিজ্ঞাসা নিবৃত্তির সহায়ক হয়েছিল। ভারতীয় বৌদ্ধ দর্শন মূলত বেদবিরােধী নিরীশ্বরবাদী নাস্তিক দর্শন | গৌতম বুদ্ধ হলেন এই দর্শনের প্রতিষ্ঠাতা।

খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে হিমালয়ের পাদদেশে প্রাচীন কপিলাবস্তু নগরীতে এক অভিজাত গৌতম বংশে সিদ্ধার্থ জন্ম গ্রহণ করেন | জন্মের পর তার নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম। আধ্যাত্মিক সাধনা ও জীবন নিয়ে নিজস্ব জ্ঞান উপলব্ধির পর তিনি বুদ্ধ নামটি গ্রহণ করেন। জরা-ব্যাধি ও মৃত্যুর দৃশ্য দেখে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন এই জগত দুঃখে পরিপূর্ণ মানুষের এই নানা বিধ দুঃখ দেখে তার মনে বৈরাগ্য আসে। এই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়ের সন্ধানে সকল সুখ বিলাসিতা তুচ্ছ করে মাত্র উনত্রিশ বছর বয়সে তিনি সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাসী হন। কঠোর তপস্যা এবং সাধনার মাধ্যমে তিনি বােধি লাভ করেন। ‘বােধি’ মানে “সত্যের জ্ঞান বা সম্যক জ্ঞান। দুঃখ মুক্তির পথই সত্য। বােধি লাভ করার পর সিদ্ধার্থ ‘বুদ্ধ’ হন। বোধির আলােকে চারটি সত্য তার কাছে প্রকাশিত হয় – দুঃখ, সমুদয়, নিরােধ ও মার্গ। এদের ‘আর্যসত্য’ বলা হয়।

বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি 

তিনি কেবলমাত্র নিজের মুক্তির জন্য নয়, বিশ্বের সমস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্টের চির মুক্তির জন্য তিনি তার ধর্ম বাণী প্রচার করেন। বুদ্ধের জীবনদর্শন, তপস্যা লব্ধ জ্ঞান বা উপদেশ বুদ্ধ ধর্ম ও বৌদ্ধ দর্শনের মূল ভিত্তি। গৌতম বুদ্ধ তার বাণী সর্বদা মুখে মুখে প্রচার করতেন। পরবর্তীকালে তার শিষ্যরা বুদ্ধের বাণী গুলি গ্রন্থ আকারে লিপিবদ্ধ করেন। প্রাচীন বৌদ্ধ গ্রন্থ গুলি পালি ভাষায় লিখিত। মগধের প্রধান ভাষা ছিল পালি। জীবনের অনেকখানি সময় বুদ্ধ মগধে কাটিয়েছেন। তিনি নানা আলাপ, কাহিনী ও উপমার সাহায্যে উপদেশ দিতেন। তিনটি প্রাচীন গ্রন্থকে বুদ্ধের বক্তব্য সম্পর্কে নির্ভরযােগ্য দলিল বলে মনে করা হয়। এদের মিলিতভাবে ত্রিপিটক বলে। এগুলি হল – 1) বিনয় পিটক, 2) সূত্র পিটক, 3) অভিধর্ম পিটক 

1) বিনয় পিটক : গৌতম বুদ্ধের উপদেশের উপর ভিত্তি করে বৌদ্ধ সংঘের ত্রিপিটক সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুকদের আচরণ সম্পর্কিত বিভিন্ন নিয়ম-নীতি লিপিবদ্ধ হয়েছে।

বিনয় পিটকের তিনটি ভাগ – i) সুত্তবিভঙ্গ, ii) খণ্ডক ও iii) পরিবার

2) সূত্র পিটক : সূত্র পিটকে রযেছে বুদ্ধের বাণী। এই পিটকের মধ্যে পাঁচটি নিকায় রয়েছে – i) দীর্ঘ নিকায়, ii) মজ্ঝিম নিকায়, iii) সংযুক্ত নিকায়, iv) অঙ্গুত্তর নিকায়, v) খুদ্দক নিকায়।

3) অভিধর্ম পিটক : এই পিটকে বৌদ্ধধর্মের দার্শনিক বিচার ও আধ্যাত্মবাদের আলােচনা রয়েছে। এর অন্তর্গত গ্রন্থসংখ্যা সাতটি –  i) ধম্মসঙ্গনি, ii) বিভঙ্গ, iii) ধাতুকথা, iv) পুলপতি, v) কথাবথু, vi)যমক, vii) পটঠান।

বুদ্ধদেবের আবির্ভাবের পূর্বে দর্শন কূটতর্ক ও আচার-বিচারের শাস্ত্র রূপে পরিচিত ছিল। বুদ্ধদেব দার্শনিক তত্ব আলােচনাতে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন না। আত্মা দেহ থেকে পৃথক সত্তা কিনা? মৃত্যুর পর আত্মার অস্তিত্ব আছে কিনা ? এ জগত সত্য কিনা ? ইত্যাদি প্রশ্নের তাত্ত্বিক আলােচনা তিনি করেননি।  তিনি মনে করতেন এই প্রশ্নগুলি অসার, নির্বাণ লাভের সহায়ক নয়। জীবনে অকার্যকর আলােচনার পরিবর্তে তিনি জগৎ ও মানব জীবনের উত্তরণে যা কার্যকারি তার কথাই বলেন। “Buddhism is essentially a psychology, logic and ethics, and not metaphysics.”

আর্যসত্য 

বেদ, উপনিষদ থেকে শুরু করে ভারতীয় প্রায় সকল দর্শনেই তত্ব জ্ঞানের অভাব অর্থাৎ অবিদ্যাকে দুঃখের মূল কারণ এবং বিদ্যাকে দুঃখ মুক্তির উপায় বলা হয়েছে। বুদ্ধদেব ও অবিদ্যাকেই দুঃখের মূল কারণ বলেছেন। বুদ্ধ মানব জীবনের দুঃখ কে সত্য বলে মনে করতেন। তিনি দুঃখকে রােগ বলে মনে করতেন বুদ্ধদেব এই দুঃখ রােগের চিকিৎসকের ভূমিকা গ্রহণ করে এ রােগের আরােগ্যের জন্য পথ নির্দেশ দিযেছেন। চিকিৎসক যেমন রােগকে জীবনের এক বাস্তব সমস্যা বলে মনে করে, বুদ্ধও তেমনি দুঃখকে জীবনের এক অতি রূঢ় বাস্তব সমস্যা বলেছেন| এই দুঃখ নিরােধের উপায় সম্পর্কে বুদ্ধ চারটি আর্যসত্যের উপদেশ দিয়েছেন। এই চারটি আর্যসত্যকে বৌদ্ধ দর্শনে আর্যসত্যচতুষ্টয় বলা হয় | এজন্য বুদ্ধকে অনেকে ‘দুঃখ-ত্রাতা মহাধন্বন্তরি’ আখ্যা দিয়েছেন।

1) দুঃখ সত্য : অন্যান্য ভারতীয় দার্শনিকদের মত বুদ্ধও দুঃখকে সংসারের প্রধান বাস্তব সত্য বলে মনে করতেন। সংসার দুঃখময়। সংসারের সকল বস্তু ক্ষণস্থায়ী। যা ক্ষণস্থায়ী তা দুঃখময়। দুঃখ সকল জীবের নিত্য সহচরী। জীব হল জন্ম, ব্যাধি, জরা, শােক ও মৃত্যুর সমষ্টি। যাকে আমরা সুখ বলি তাও দুঃখে পূর্ণ। কারণ সুখকে হারানাের ভয়ই একপ্রকার দুঃখ। যা অনিত্য বা স্থায়ী নয় তাই দুঃখ। তাই দুঃখের অস্তিত্ব অস্বীকার করা যায় না। 

2) দুঃখের কারণ আছে : বুদ্ধের দ্বিতীয় আর্য সত্য দুঃখ যেমন রয়েছে, তেমনি দুঃখের কারণও রযেছে। বৌদ্ধ দর্শনে দুঃখের কারণকে ‘দুঃখ সমুদায়’ বলা হয়। সুখ আছে কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য। বৌদ্ধদর্শন মতে জগতে যেসব ঘটনা উৎপন্ন হয় ও ধ্বংস হয় তার মূলে রয়েছে একটি সর্বব্যাপী কার্যকারণ নিয়ম। এই নিয়ম কে বলা হয় প্রতীত্যসমুৎপাদের নিয়ম বা The theory of dependent origination. সব কাজেরই কারণ আছে। দুঃখের কারণ হিসেবে বুদ্ধদেব বারােটি উপাদানকে চিহ্নিত করেন। এদের বলা হয় দ্বাদশ নিদান বা ভবচক্র। 

এগুলি হল –
1) অবিদ্যা (Ignorance)
2) সংস্কার (Impression)
3) চেতনা বা বিজ্ঞান (Consciousness)
4) নামরুপ (Mind body organism)
5) ষড়ায়তন (Six sense organs)
6) স্পর্শ (Sense contact)
7) বেদনা বা অনুভূতি (Sense experience)
8) তৃষ্ণা (Craving)
9) উপাদান বা বিষয় (Mental clinging)
10) ভব (Tendency to be born)
11) জাতি (Rebirth)
12) জরা ও মরণ (Old age and death)

এই বারােটি নিদানের মধ্যে প্রথম দুটি পূর্ববর্তী জীবনের, পরের আটর্টি বর্তমান জীবনে এবং শেষ দুটি ভবিষ্যৎ জীবনে কার্যকারী হয় |

3) দুঃখের নিবৃত্তি : যেসব কারণ থেকে দুঃখের উৎপত্তি হয়, সেগুলির নিরােধ ঘটাতে পারলেই দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব. 12টি নিদান বা ভবচক্র যদি বিনষ্ট হয় তবে দুঃখের নিবৃত্তি ঘটবে। অবিদ্যার নাশ হবে, জন্ম-মৃত্যুর চক্র স্তব্ধ হবে। মানুষ বােধি বা আত্মজ্ঞান লাভ করলে, নির্বাণ লাভ সম্ভব হবে। কোন কাঠ যখন নিঃশেষ হয়ে যায়, তখন আগুন নিভে যাওয়ার অবস্থা হয়। তাকে বুদ্ধদেব নির্বাণের সঙ্গে তুলনা করেছেন। উত্তপ্ত কামনা-বাসনা পুড়ে ছাই হয়ে গেলে যে শীতল বা শান্ত অবস্থা হয় তাকে নির্বাণ বলে। আসলে নির্বাণ হল সকল প্রকার কামনাবাসনা-মােহ এবং অবিদ্যার বিলােপ বা ধ্বংস | নির্বাণ জীবনের অস্তিত্ব নয়। নির্বাণ অপার শান্তি, আনন্দের অবস্থা। নির্বাণ হল পরম সুখ। 

4) দুঃখ নিরােধের উপায় বা মার্গ আছে : দুঃখের যেমন কারণ আছে, তেমনি দুঃখ নিরােধের উপায়ও আছে। এটি বুদ্ধের চতুর্থ আর্যসত্য। বুদ্ধদেব দুঃখ নিরােধের আটটি মার্গের কথা বলেছেন। এই পথকে অষ্টাঙ্গিক মার্গ বলা হয় (Eight fold noble path)। এই অষ্টাঙ্গিক মার্গই বৌদ্ধ নীতিশাস্ত্র।

অষ্টাঙ্গিক মার্গ (Eight fold noble path) 

বৌদ্ধদর্শনে এই মার্গ বা পথ অসংযত ভােগবিলাস ও কঠোর কৃচ্ছসাধনের এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পথ। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের ন্যায় সাধারণ মানুষও এই পথ অনুসরণ করে দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে। বুদ্ধদেব নির্বাণ লাভের জন্য আটটি মধ্যবর্তী মার্গের কথা বলেন। সেগুলি হল – 

1) সম্যক দৃষ্টি (Right Vision) : বৌদ্ধমতে অবিদ্যাই সকল দুঃখের মূল কারণ। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে সত্য জ্ঞানের উন্মেষ না হলে অবিদ্যা জনিত দুঃখ থেকে মুক্তি লাভ করা সম্ভব নয় | কাজেই নির্বাণ লাভের জন্য সর্বপ্রথম প্রয়োজনীয় হল সম্যক দৃষ্টি অর্থাৎ চারটি আর্যসত্য সম্পর্কে যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা।

2) সম্যক সংকল্প (Right Resolution) : সংকল্প মানে দৃঢ় ইচ্ছা। যথার্থ জ্ঞান লাভের জন্য ভােগ,বাসনা, ক্রোধ, হিংসা প্রভৃতি বিষয় বর্জন করে সর্ব জীবে প্রেম ও করুণা বিতরনের ইচ্ছাই সম্যক সংকল্প।

3) সম্যক বাক্য (Right speech) : বাক্যের সংযমই হল সম্যক বাক্। মিথ্যা ও কটুভাষণ, পরনিন্দা ও বাচালতা থেকে বিরত থাকা এবং সত্য, সংযত, শিষ্ট ও ন্যায় সংগত কথনের অভ্যাস গঠনই সম্যক বাক।।

4) সম্যক কর্মান্ত (Right Action) : সংযত আচরণ বা সদাচার হল সম্যক কৰ্মান্ত। কাম, ক্রোধ, লােভ, মােহ ও মাদক, এগুলি বর্জন করে অহিংসা, মৈত্র, করুনা দ্বারা পরিচালিত হয়ে কর্মসাধন করতে হবে | নিষ্কামভাবে কর্মসম্পাদনই সম্যক কর্মান্ত।

5) সম্যক আজীব (Right Livelihood) : সৎপথে জীবিকানির্বাহ হল সম্যক আজীব। দাসত্ব, মাদক বা পশু বিক্রয় দ্বারা জীবিকার্জন সর্বোতভাবে বর্জনীয়। 

6) সম্যক ব্যায়াম (Right Efforts) : এই মার্গটি হল মনকে শুদ্ধ রাখার মানসিক ব্যায়াম বা মনের অনুশীলন। কুচিন্তার উৎপত্তি ও বিকাশ রােধে এবং সুচিন্তার অনুশীলন ও উৎপাদন এবং মনকে সৎ চিন্তায় পরিপূর্ণ রাখা হল সম্যক ব্যায়াম।

7) সম্যক স্মৃতি (Right Memory) : বুদ্ধের উপদেশ সর্বদা স্মরণ রাখতে হবে। জগতে দেহ-মন এবং যাবতীয় বস্তু সবই অস্থায়ী, জগতের অনিত্যতা ও সংসারে দুঃখের আতিশয্য – এসব কথা স্মৃতিতে রাখতে হবে। তাহলেই ভােগের কামনাবাসনা শিথিল হবে।

৪) সম্যক সমাধি (Right concentration) : মনের সংহতি ও যথার্থ মনসংযােগ এর মধ্য দিয়ে বিচার-যুক্তিবােধ সুতীক্ষ হয়ে ওঠে, মন শুধু চিন্তার ধারক ও বাহক হয়ে ওঠে। মনসংযােগর ক্ষমতা গভীর থেকে গভীরতর হয়। মন প্রশান্ত হয়। সমাধি দুঃখ নিবৃত্তি বা নির্বাণলাভের শেষ মাৰ্গ | এই ধাপে সাধক আত্মসমাহিত অবস্থা প্রাপ্ত হয়। পূর্ণ প্রজ্ঞা প্রাপ্ত হয়। নির্বাণ লাভ হলে আর পুনর্জন্ম হয় না।

উপরােক্ত আলােচনা থেকে বলা যায় গৌতম বুদ্ধ ছিলেন একজন বাস্তববাদী দার্শনিক। বুদ্ধদেব মূলত জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ নীতিনিষ্ঠ দার্শনিক। সর্বশেষ্ঠ নীতি সম্মত ধর্মের প্রবর্তক বুদ্ধের মূল লক্ষ্য ছিল ,দুঃখতাপে জর্জরিত সংসারে আবদ্ধ মানুষের দুঃখ লাভ অথবা নিবৃত্তি ঘটানাে। নিছক তত্ব আলােচনায় মানুষের দুঃখ লাভ হয় না। শুধু নৈতিক চরিত্র গঠনের মাধ্যমেই দুঃখের নিবৃত্তি সম্ভব। এটাই হল বৌদ্ধ দর্শনের সারকথা।

আরো পড়ুন

বেদান্ত দর্শন (Vedanta Philosophy) | বেদান্তের প্রধান তত্ত্ব | শিক্ষার পদ্ধতি | পাঠক্রম

শিক্ষায় বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাব কি | Significance of Buddhism in Education in Bengali

প্রয়ােগবাদ (Pragmatism) কি | প্রয়ােগবাদী দর্শনের মূলনীতি | শিক্ষাক্ষেত্রে প্রয়োগবাদের প্রভাব

দর্শন কি | দর্শনের সংজ্ঞা দাও | দর্শনের স্বরূপ বা প্রকৃতি আলোচনা করো

যোগ দর্শন (Yoga Philosophy) | Indian Philosophy (ভারতীয় দর্শন)

সাংখ্য দর্শন (Sankhya Philosophy) | Indian Philosophy (ভারতীয় দর্শন)

ন্যায় দর্শন কি | শিক্ষায় ন্যায় দর্শনের প্রভাব কি | What is Nyaya Philosophy in Bengali

Leave a Comment

error: Content is protected !!