অশোক মিত্র কমিশন | Ashok Mitra Commission 1991-1992

Q: অশোক মিত্র কমিশন | Ashok Mitra Commission 1991-1992
Q: অশোক মিত্র কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখ ।
Q: প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে অশোক মিত্র কমিশনের সুপারিশ গুলি লেখ ।

উত্তর:

অশোক মিত্র কমিশন (Ashok Mitra Commission 1991-1992)

অশোক মিত্র কমিশন
অশোক মিত্র

অশোক মিত্র কমিশন গঠিত হয়- ১৯৯১ সালের, ১৩ই আগস্ট। রিপোর্ট পেশ করে ১৯৯২ সালে। এই রিপোর্টে ৩৭৬টি পৃষ্ঠা এবং ১১৮টি সুপারিশ ছিল। এই কমিশনের সভাপতি ছিলেন ডঃ অশোক মিত্র। সভাপতি ছাড়া আরো ৮ জন সদস্যদের নিয়ে এই কমিশন গঠিত হয়েছিল। তাদের নামগুলি হল – 

1. অধ্যাপক পবিত্র সরকার।
2. অধ্যাপক জি.এস. সান্যাল।
3. ডঃ শ্রীমতি গৌরি নাগ৷
4. অধ্যাপক মুস্তাফা বিন কাসিম।
5. শ্রী অরুণ চৌধুরী।
6. সুনন্দ সান্যাল।
7. পরমেশ আচার্য।
8. শ্রী এন. এস. ঘোষ

প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে অশোক মিত্র কমিশনের সুপারিশ :

1. প্রাথমিক বিদ্যালয় কম খরচে পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় সুউপযোগী ভাবে গড়ে তুলতে হবে।

2. শুধু বিদ্যালয় নির্মাণ নয়, তার পাশাপাশি শিখন উপকরণ গুলোর জোগান থাকা দরকার। যেমন- ব্লাকবোর্ড, চক, ডাস্টার, ম্যাপ ইত্যাদি।

3. সরকারি সাহায্যে সমস্ত বিদ্যালয়ে বই দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

4. প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকেই শরীরচর্চা ও খেলাধুলার ব্যবস্থা করতে হবে।

5. প্রতিটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের আনুপাতিক হার বজায় রাখতে হবে।

6. ৫ বছর অন্তর অন্তর শিক্ষকদের বিভিন্ন ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে, কারণ, তারা যাতে আধুনিক পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করতে পারে।

7. বছরে অন্তত ২ বার করে বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে হবে। 

8. প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং খাবার প্রস্তুতের জন্য রান্না ঘরের ব্যবস্থা করতে হবে।

9. পাশ-ফেল প্রথার অবলুপ্তি এবং প্রথম শ্রেণী থেকে পরীক্ষা না নিয়ে প্রাথমিকের শেষ পরীক্ষা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। কারণ, এতে একই ক্লাসে বার বার থাকার সংখ্যা কমবে এবং অপচয় কম হবে।

10. সরকারি ও সরকারি সাহায্য প্রাপ্ত বিদ্যালয় গুলিতে, পঞ্চম শ্রেণী থেকে ইংরেজি চালু করতে হবে।

মাধ্যমিক শিক্ষা নিয়ে সুপারিশ –

1. পাঠক্রম এমন হবে যে, শিক্ষার্থীরা স্ব-নিযুক্তিকরন, বৃত্তি শিক্ষা এবং সাধারণ শিক্ষা গ্রহণের ক্ষেত্রে মনোযোগী হয়।

2. মাধ্যমিক পর্ষদ এবং উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ কে বিকেন্দ্রীভূত হতে হবে।

3. গ্রামাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার বিস্তারের জন্য বিদ্যালয় স্থাপন করতে হবে এবং ব্যয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে।

4. Work Education শিক্ষার্থীদের মান উৎপাদনশীল শ্রমের মনোভাব গড়ে তুলেছে কি না সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। 

5. Learning English শিক্ষার্থীরা আরও সহজ ভাবে শিখতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। এবং তার পাশাপাশি ইংরেজি গ্রামার পড়ানো যায় কিনা সেটা দেখতে হবে।

6. নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পাঠক্রম শেষ করতে হবে। 

7. পাশের নম্বর 40% প্রত্যেক বিষয়ে এবং সামগ্রিকভাবে ৫০% নম্বর পেলে শিক্ষার্থী দের উত্তীর্ণ বলে গণ্য করা হবে।

৪. প্রাইভেট টিউশন বন্ধ করে টিউটোরিয়াল ক্লাসের উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

9. শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ক্যালেন্ডার প্রদান করতে হবে এবং নূন্যতম 220 দিন পড়াশোনা চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। 

10. মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য প্রতি জেলায় School Service Board গঠন করার কথা বলা হয়েছে।

11. বিদ্যালয় শিক্ষায় Social Service বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার বলা হয়েছে।

12. মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এমন হবে, যাতে পরীক্ষার্থীরা নিজেদের চিন্তা ভাবনা ও যুক্তিপূর্ণ ভাবে ব্যক্ত করতে পারে।

13. প্রত্যেক বিদ্যালয়ে গ্রন্থাগার ও বই পড়ার জন্য রুম (Reading Room) থাকতে হবে।

কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইনে বৃদ্ধি নিয়ে সুপারিশ :

1. মাধ্যমিক পর্যন্ত কোন মাইনে নেওয়া হতো না। কিন্তু কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র প্রতি 50-75 টাকা মাইনে ধার্য করার কথা বলা হয়েছে।

2. মেডিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার ক্ষেত্রে তা 250 টাকা ধার্য করার কথা বলা হয়েছে।

3. তবে অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর 30% শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পড়াশোনা করার সুযোগ দেওয়া হবে।

4. উন্নয়নখাতে ফি বাড়ানোর সুপারিশ করে কমিশন। শহরাঞ্চলে সেটা বার্ষিক 500 টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে 250 টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

শিক্ষা কর নিয়ে কমিশনের প্রস্তাব :

1. গ্রামাঞ্চলে যাদের 5 একরের বেশি জমি বা বার্ষিক আয় 10,000 টাকা তারা মাসিক কর দেবে 10-100 টাকা।

2. বিভিন্ন সংস্থা যাদের বার্ষিক আয় 10 লক্ষ টাকা তাদের ক্ষেত্রে শিক্ষা কর 50-2000 টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

স্কুল জোট করার প্রস্তাব :

স্কুলে শিক্ষকদের অভাব ও পরিকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো অঞ্চলের কাছাকাছি স্কুল গুলিকে একত্র করে স্কুল জোট গঠনের প্রস্তাব দেয়।

কলেজের শিক্ষকদের নিয়ে সুপারিশ :

1. সমস্ত স্তরের শিক্ষকদের 60 বছর বয়সে অবসর নিতে হবে। 

2. রাজ্যের যেকোনো একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে খুব শীঘ্রই করেসপেন্ডন্স কোর্স চালু করতে হবে।

3. নতুন কলেজ না বানিয়ে উপস্থিত কলেজ গুলোর উন্নয়ন করতে হবে।

4. I.T.I & Polytechnic কলেজ গুলো আরো বেশি শক্তিশালী করতে হবে।

5. নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে প্রশাসনের সর্বস্তরে বাংলায় কাজকর্ম শুরু করতে হবে।

6. বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে গবেষণা যাতে আরো ভালো ভাবে করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে।

7. বিদ্যালয়ে স্কুল সার্ভিস কমিশন এবং কলেজ সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করতে হবে। 

8. এছাড়াও কমিশন আরো বিষয়ে সুপারিশ করেছিল। যেমন- তফশিলি জাতি, তফশিলি উপজাতিদের জন্য শিক্ষা, নারী শিক্ষা, শিক্ষা পরিচালনা ব্যবস্থা ইত্যাদি বিষয়েও সুপারিশ করেছিল।

আরো পড়ুন

ডেলরস কমিশন কী | Delors Commission (1996)

ভারতীয় সংবিধানের মৌলিক অধিকার | Fundamental Rights of Indian Constitution

মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পর্কে কোঠারি কমিশনের সুপারিশ | Kothari Commission (1964-66) in Bengali

জাতীয় উন্নয়নে কোঠারি কমিশনের সুপারিশ | National Policy on Education (NPE) in Bengali

জনার্দন রেড্ডি কমিটি | Janardhana Reddy Committee or POA 1992 in Bengali

জাতীয় শিক্ষা নীতি 2020 PDF | National Education Policy 2020 in Bengali

নিয়ন্ত্রিত শিক্ষা বা প্রথাগত শিক্ষা কি | বৈশিষ্ট্য | Formal Education In Bengali

Leave a Comment

error: Content is protected !!